ধন্যবাদ
প্রশ্নটি করার জন্য। বর্তমানে বাংলাদেশের যতগুলো ইকমার্স আছে তার মধ্যে সব
থেকে বহুল আলোচিত হচ্ছে ইভ্যালি। আলোচনা সমালোচনা যা ই হোক তার পিছনে
রয়েছে তাদের মার্কেটিং পলিসি। যার কিছুটা খালি চোখে না দেখে মতিষ্ক দিয়ে
অনুভব করাই ভাল। ইভ্যালি
তখনো শরুই হয়নি। কিন্তু ইভ্যালির নামটা আমি জানি। কিভাবে? ঢাকা থেকে সিলেট
এমনকি বড় ছোট বেশ কয়েকটি জেলা শহরে ইভ্যালি বিশাল বিশাল খাম্বায় বিলবোর্ড
লাগিয়ে তাদের নামটা আমাকে সহ দেশের বেশির ভাগ মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছে। তারা
যখন শুরু করে বিভিন্ন ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ সব মিডিয়াতে তারা
খুব ফলাও করে ব্যবসা শুরু করে। অন্যান্য ইকমার্স গুলো কেবল বিশেষ কোন দিন
বা ইভেন্টে করলেও ইভ্যালি সমান তালে সব গুলোতেই চালিয়ে গেছে। ইভ্যালি
শুরু থেকেই তাদের ব্র্যান্ডিং/এড/ সব কিছু নিয়ে ইন্টারনেটে বাজিং/হাইপ
তুলে ফেলেছে। হোক তাদের সমালোচনাই বেশি। কিন্তু তারা সফল! তারা
কাস্টমার কেয়ার অথবা সেবা দিতে না পারলেও ব্র্যান্ডিং চালিয়ে গেছে সমান
তালে। বিশেষ করে অন্য সব ই কমার্স থেকে বিশাল পরিমানে ছাড় দিয়ে সবাইকে তাক
লাগিয়ে দিয়েছে। যেটা তাদের মার্কেটিং এর বিশেষ ভূমিকা রাখতে সাহায্য
করেছিল। হোক তারা তাদের সেবা শত ভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি। কিন্তু তারা
মার্কেটিং এর দিক দিয়ে সফল। তাদের
মার্কেটিং পলিসি তরুণ/বাইকার বেছে বিয়েছে তাদের টার্গেট করেই অন্যান্য দের
কাছে রিচ করেছে। ফলে সোস্যাল মিডিয়ার বাইকার গ্রুপ গুলোতে একমাত্র
ই-কমার্স ইভ্যালির নাম ই ছড়িয়েছে। অন্যান্য
স্টার্ট আপ যখন সব ব্যালেন্সিং করে আগাচ্ছিল ওরা শুরুই করেছে হাইপ তুলে।
তার জন্য অবশ্য বেশ ভাল এমাউন্টের টাকাও খরচ করতে হয়েছে তাদের। ট্রাফিক
বক্স থেকে শুরু করে ঢাকার অনেক জায়গায়ই তারা তাদের ব্র্যান্ডিং করেছে।
ইভ্যালির থিম সং টা নিশ্চয় এক বার হলেও আপনার চোখে পড়েছে? না পড়লে চলুন
দেখে আসি ইউটিউবে- খেয়াল
করলে দেখবেন পুরো ভিড়িওটাই কিন্ত তরুণ তরুনীদের এঙ্গেজ করেছে এবং সেই সাথে
জিংগেল বেশ আকর্শনীয় করে রেখেছে। যেটা ট্রেন্ড হিসেবে বাংলাদেশের কোন ই
কমার্সই ফলো করে নি তাদের মত করে। এখানে
অবশ্য ব্যাচেলর পয়েন্ট নাটকটা স্পন্সর করেও তারা মার্কেটিং কৌশল খাটিয়েছে।
যেটি তাদের ছাঁকা কিছু রিচ দিয়েছে। কেননা অনেক দিন পরে কোন নাটক যদি হিট
করে তবে তা কাজল আরেফিন অমি আর কাবিলার ব্যাচেলর পয়েন্ট। আপনিই
বলুন, বাংলাদেশের আর কোন ই-কমার্সের CEO সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে
একটিভ? ভদ্রলোকের নাম রাসেল। Mohammad Rassel লিখে ফেসবুক, লিংকেডিন এমনকি
গুগোল করলেও তাকে পেয়ে যাবেন সহজেই। তার লাগাতার পোস্ট গুলোও কিন্তু তাদের
মার্কেটিং কৌশল হিসেবে কাজ করছে। পুরো
লেখাটি পড়ে এবার ভেবে দেখুন কোন জিনিসটা তাদের মার্কেটিং এর কাজ করছেনা?
সব কিছুই তারা তাদের প্রচার/ মার্কেটিং হিসেবে বুস্ট পাচ্ছে। হোক সেটা
পজেটিভ অথবা নেগেটিভ। বাংলাদেশের
সব ই-কমার্সেরই কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। আমার মতে সেবা দিয়ে মানুষের
আস্থা অর্জন করতে পেরেছিল পিকাবো। কেননা লোক মুখে তাদের গুনগানই সবাই করে।
কিন্তু আফসোস যে ভাল সেবা দিয়েও কোম্পানিটা বন্ধ হতে চলেছে।